
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
২০২৬ সালের প্রস্তাবিত গণভোটকে সামনে রেখে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশ কী পাবে এবং কী পাবে না—তা তুলে ধরে একটি বিবৃতি দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত সংস্কার জনগণের সম্মতির মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে প্রশ্ন রাখা হয়—আপনি কি এমন একটি বাংলাদেশ চান, যেখানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে? বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আসতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে— তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি ও বিরোধী দলের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সরকারি দল যেন এককভাবে ইচ্ছামতো সংবিধান সংশোধন করতে না পারে, সে বিষয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করা। এছাড়া সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের হাতে দেওয়া। এছাড়া একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না—এমন মেয়াদসীমা নির্ধারণের কথাও বলা হয়। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়ানো, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠন, এবং বিচারব্যবস্থার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও ‘হ্যাঁ’ ভোটের সুফল হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ করা হবে—যার মধ্যে ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ না করার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে স্পষ্ট ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানায়, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই এই গণভোটের মূল লক্ষ্য। গণভোটে অংশ নিয়ে ভোটারদের মতামতই নির্ধারণ করবে, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে।