রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন, কুমিল্লা।।
কুমিল্লা-৬ (সদর) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দলে ও জনমনে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে দলের দুর্দিনে যিনি ছিলেন অটল, সেই ত্যাগী নেতা হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন এবার মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন কুমিল্লা-১০ আসনের নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। এই সিদ্ধান্তে কুমিল্লা বিএনপির অভ্যন্তরে সৃষ্টি হয়েছে বিভক্তি, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ।হাজী ইয়াছিন শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সামাজিকভাবেও ছিলেন সদর আসনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজস্ব কলকারখানায় ২০-২৫ হাজার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান করে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, মামলা-হামলার সময় সহযোদ্ধাদের আগলে রাখা, এবং ক্লিন ইমেজ ধরে রাখার কারণে তাকে ‘সদরের কান্ডারি’ বলেই জানেন সবাই।অন্যদিকে, মনিরুল হক চৌধুরী ছিলেন কুমিল্লা-১০ আসনের শক্তিশালী নেতা। আসন পুনর্বিন্যাসে তার ভোটার এলাকা কুমিল্লা-৬-এ যুক্ত হলেও, তার মূল ভিত্তি রয়ে গেছে কুমিল্লা-১০-এ। ফলে অনেকেই মনে করছেন, তাকে কুমিল্লা-১০-এ রেখে ইয়াছিনকে কুমিল্লা-৬-এ মনোনয়ন দিলে দুটি আসনেই ভালো ফল আসত।কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, “দলের দুঃসময়ে যিনি পাশে ছিলেন, তাকেই যদি বঞ্চিত করা হয়, তাহলে কর্মীরা কীভাবে অনুপ্রাণিত হবে?”আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম বলেন, “দুই নেতাকে যথাযথ আসনে মূল্যায়ন না করলে দুটি আসনই ঝুঁকিতে পড়বে।”মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “সদর আসন গোটা জেলার নেতৃত্ব দেয়। এখানে ইয়াছিনের বিকল্প নেই।”তবে মনিরুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক চৌধুরী বলেন, “দলীয় হাইকমান্ড জনপ্রিয়তা যাচাই করেই মনোনয়ন দিয়েছেন। মনিরুল হক চৌধুরী এখানে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন বিতর্ক শুধু কুমিল্লা-৬ নয়, জেলার ১১টি আসনেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এই বিভক্তির সুযোগ নিতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন, ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনা।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত