স্টাফ রিপোর্টার,হোমনা প্রতিনিধি কুমিল্লা।।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলা পরিষদ চত্বরের নরম সকালের আলোটা হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গেল এক হৃদয়বিদারক চিৎকারে। দুই বছরের ফুটফুটে ফাইজা আক্তার মায়ের হাত ধরে যে ছোট্ট মেয়ে একটু আগেই হাসতে হাসতে হেঁটে যাচ্ছিল, মুহূর্তের মধ্যে সে পরিণত হলো নিথর এক দেহে।বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হোমনার টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সামনে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর সরকারি গাড়িটি দ্রুতগতিতে প্রবেশের সময় চাপা পড়ে যায় ফাইজা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বললেন, “সবকিছু এত দ্রুত ঘটল… কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়।”মায়ের চোখের সামনে শিশুটি ঢলে পড়তেই ভেঙে পড়েন তিনি। বুকফাটা কান্নায় বারবার বলতে থাকেন,“নিমিষেই আমার কলিজার টুকরা ফাইজা চলে গেলো। গাড়িটা খুব দ্রুত আসছিল…”তার এই আর্তনাদ শুনে উপস্থিত সবাই চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি।ফাইজার বাবা ফাইজুল হক একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। বরিশালের ওজিরপুর উপজেলার পুটিয়া গ্রামের এই পরিবারের স্বপ্ন আর হাসিতে ভরা দিনগুলো মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন এসিল্যান্ড আহমেদ মোফাসের এবং নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। হাসপাতালে এসে শোকাহত বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এসিল্যান্ড। তিনি বলেন,ঘটনার সময় আমি গাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে দৌড়ে আসি। এই শিশু আমার সন্তানও হতে পারত… একজন বাবা হিসেবে আমি সর্বোচ্চ আইনি সহায়তা করবো।”টিউলিপ ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক জানান ফাইজা তার বড় ভাইকে বিদ্যালয়ে দিতে এসেছিল মায়ের সাথে। কে জানত, পরিবারের এই স্বপ্নমাখা সকালটি পরিণত হবে তাদের জীবনের ভয়ানকতম দুঃস্বপ্নে।ফাইজার অপূরণীয় চলে যাওয়া এক নির্মম স্মৃতি হয়ে রইল হোমনার আকাশে। মা–বাবার শূন্য কোলে আজ শুধু নিঃশব্দ কান্না আর এই প্রশ্ন সন্তান হারানোর এই যন্ত্রণা কি কখনো ভুলে থাকা সম্ভব?”
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত